Translate

Sunday, June 3, 2018

রাশিয়া বিশ্বকাপে সাত মুসলিম দেশ

রাশিয়ায় বসবে ফিফা বিশ্বকাপের ২১তম আসর। ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। ইতোমধ্যে ৩২টি দল হাতে পেয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট। যার মধ্যে মুসলিম দেশ সাতটি। চলুন দেখে নিই রাশিয়া বিশ্বকাপে পা রাখা সাত মুসলিম দেশের ফুটবলের এপিঠ-ওপিঠ।

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস

রাশিয়া বিশ্বকাপ সহ মোট পাঁচবার বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পায় তিউনিসিয়া। ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০২ এবং সবশেষ ২০০৬ সালের জার্মান বিশ্বকাপে খেলেছিল এই মুসলিম দেশটি। কিন্তু তারা কখনোই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছিল তিউনিসিয়া। বলা যায়, এখন পর্যন্ত এটাই তাদের সর্বোচ্চ অর্জন।

  

বর্তমান দল কেমন

গেল কয়েকটা বছর তিউনিসিয়া তাদের আগের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেনি। যে কারণে ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা হয়নি দেশটির। বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার আছেন। যাদের কাঁধে ভর করে রাশিয়ায় যাচ্ছে তিউনিসিয়া। তাদের মধ্যে ওয়াবি কাজরি, আনিস বিন হাতিরা, আইমেন আব্দেননুর, আহমেদ আকাইসিই হলেন রাশিয়া বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার মূল অস্ত্র। 

প্রধান কোচ

চলতি বছরের এপ্রিলে নাবিল মালুলকে জোচের দায়িত্ব দেয় তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন। পোলিশ কোচ হেনরিক ক্যাসপার্সজাকের চেয়ারে বসানো হয় নাবিলকে।  তিউনিসিয়ার জাতীয় দলের মিডফিল্ডার নাবিল ১৯৮৮ সালে সিওলে অনুষ্ঠিত সামার অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন। 

মরক্কোর বিশ্বকাপ ইতিহাস

১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলেছিল মরক্কো। সে থেকে ফুটবলবিশ্ব চেনে এই দেশটিকে। এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চমক লাগিয়ে দেয় আফ্রিকার এই দেশটি। ইংল্যান্ড, পোল্যান্ডের মতো দলকে ধরা খাইয়ে দেয় তার। দুই দলের বিপক্ষেই গোলশূন্য ড্র করে মরক্কো। এখানেই শেষ নয় পর্তুগালকে ৩-২ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ‘এফ’ গ্রুপ থেকে নেদারল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে মরক্কো। ৯৮’র ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেলে দলটি। সে বছর গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ১ জয় ১ হার আর ১ ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মরক্কোবাসীকে। দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেল মরক্কো। 'সি' গ্রুপে কোত দি ভোয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে রাশিয়ার টিকিট হাতে পায় মরক্কো।

 

বর্তমান দল কেমন

শেষ চার বিশ্বকাপে মাঠে ছিল না মরক্কো। দীর্ঘ এই সময়ে বেশ কিছু প্রতিভা জোগাড় করেছে দেশটি। জুভেন্টাসের সেন্টার ব্যাক মেহেদি বেনাটিয়া রয়েছেন মরক্কোতে। এ ছাড়া  উইঙ্গার নাবিল দিরার, আশরাফ লাজার, ইউসেফ আল আরাবি, হামিদ, ওমর আল কাদুরি এবং নরদিন আমারবাত। রাশিয়া বিশ্বকাপে এ ক’জন ফুটবলার প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রধান কোচ

২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মরক্কো দলকে কোচিং করান দেশটির সাবেক ফুটবলার ইজজাকি। এরপর ইজজাকিকে বাদ দিয়ে কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়  সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার হেরভে রেনার্ডকে। একটা জায়গায় রেনার্ড সফল। কোচিং ক্যারিয়ারে তার অধীনে আফ্রিকার দুটি দেশ ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ শিরোপা শোকেস পুরেছে।

মিশরের বিশ্বকাপ ইতিহাস

এর আগে দুইবার বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পায় মিশর। ১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে হাঙ্গেরিকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেয় পিরামিডের দেশটি। এরপর ১৯৯০ বিশ্বকাপে সেই ইতালির মাটিতেই চমক দেখায় মিশর। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস এবং আয়ারল্যান্ডকে জিততে দেয়নি দলটি। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে পরাজিত হয় মিশর।

বর্তমান দল কেমন

সর্বশেষ ২০১০ সালের ‘আফ্রিকা কাপ অব নেশনস’ শিরোপা জিতেছে মিশর। যেটা ছিল মিশরের সপ্তম নেশনস কাপ শিরোপা। একই বছর বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার হতে পারেনি মিশর। আলজেরিয়ার কাছে প্লে-অফ পরীক্ষায় ফেল করে বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে যায় তাদের। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চেও উঠতে পারেনি মিশর। বাছাইপর্বে ঘানার কাছে খুব বাজেভাবে হেরে বিদায় নেয় দলটি। মাঝে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যার প্রভাব পড়ে দেশটির ফুটবলঅঙ্গনে। যেটা অনেক পিছিয়ে দেয় মিশরকে। যাহোক শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে নাম লেখাল মিশর। আলেকজান্দ্রিয়ার বুর্গ আল আরব স্টেডিয়ামে কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাশিয়ার টিকিট কাটে আফ্রিকার এই দল। বর্তমানে তাদের দলে একাধিক তারকা খেলোয়াড় আছে। যারা মিশরের বিভিন্ন লিগে দাপিয়ে বেড়ান। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে নজরে থাকবেন মিশরের কয়েকজন ফুটবলার। এরা হলেন-সালাহ, সাঈদ, আহমদ হাসান ও মাহমুদ।

প্রধান কোচ

২০১৫ সালে মিশরের কোচের দায়িত্ব পান হেক্টর কুপার। কোচিং ক্যারিয়ারে ভ্যালেন্সিয়া, ইন্টার মিলান, রিয়াল বেতিসের মতো ক্লাবে কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া ২০০৮-২০০৯ মৌসুমে জর্জিয়ার ফুটবলকে নতুন মাত্রা দেন হেক্টর।

নাইজেরিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস

১৯৯৪ বিশ্বকাপে প্রথমবার নাম লেখায় নাইজেরিয়া। গ্রুপ পর্বেই সবাইকে চমকে দেয় দেশটি। তিন ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের নাম্বার ওয়ান আসন দখল করে নাইজেরিয়া। প্রথম রাউন্ড পার করে নকআউটে কাটা পড়ে আফ্রিকার এই দেশটি। সে বছর  ইতালির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেন নাইজেরিয়া। এরপর ৯৮’র বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত নাইজেরিয়াকে দেখে বিশ্ব। প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে মাটিতে নামায় দেশটি। দ্বিতীয় ম্যাচে বুলগেরিয়াকে হারিয়ে দেয় তারা। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে আর পেরে উঠেনি নাইজেরিয়া। নকআউট পর্বে ডেনমার্কের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে তারা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে বেশ কষ্ট করেই গ্রুপ পর্ব পার করে নাইজেরিয়া।  সে বারও নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নেয় দেশটি। ২০১৮ বিশ্বকাপেও ভালো করার ইচ্ছা নাইজেরিয়ানদের। ইতোমধ্যে বাছাইপর্বে দারুণ পারফর্ম করেছে দেশটি। আফ্রিকা অঞ্চলের প্রথম দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় নাইজেরিয়া। জাম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে দলটি ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পায়। এরপর প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দেয় এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি। 

বর্তমান দল কেমন

ভিনসেন্ট এনইয়ামা, বিশ্বের অন্যতম নামকরা একজন গোলরক্ষক তিনি। কেবল জাতীয় দল নয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এনইয়ামা বেশ পরিচিত নাম। বর্তমানে নাইজেরিয়ার জাতীয় দলের পাশাপাশি ইসরাইলের ফুটবল ক্লাব মাকাবির গোলকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন। তার আগে খেলেছেন লিগ ওয়ান দল লিলে’র হয়ে। এ ছাড়া নাইজেরিয়ার দলে এমন কিছু ফুটবলার আছেন, যারা বিশ্বের নামীদামী ক্লাব মাতিয়ে বেড়ান। চেলসির সাবেক মাঝমাঠের তারকা জন ওবি মিকেল নাইজেরিয়ার বর্তমান কাপ্তান। ইন্টার মিলান, তুরিন মাতানো জোয়েল ওবি, এফসি অ্যাশদোদ ক্লাবে খেলা এফে অ্যামব্রোস।

প্রধান কোচ

জার্মান কোচ গেরনট রোহর’র অধীনে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কাটল নাইজেরিয়া। খেলোয়াড়ি জীবনে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সি গায়ে জড়ানো গেরনট নাইজেরিয়াকে দারুণ ছন্দে রেখেছেন। দেশ-বিদেশের বহু ক্লাবে কোচিং করান গেরনট। যখন তিনি সুপার ঈগলে যোগ দেন তখন দলটির অবস্থা ছিল শোচনীয়। আফ্রিকার নেশনস কাপের দুটি আসরে জায়গা হয়নি নাইজেরিয়ানদের। সে চাপ কাটিয়ে গেরনট এই দলকে পাইয়ে দেয় রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট।

সেনেগালের বিশ্বকাপ ইতিহাস

২০০২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে জায়গা পায় সেনেগাল। ওই আসরের গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেয় দেশটি। পরের দুই ম্যাচে ডেনমার্ক, উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করে চলে যায় নকআউট পর্বে। যেখানে সুইডেনকে ২-১ হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে চলে যায় সেনেগাল। এরপর দীর্ঘদিন দেখা যায়নি সেনেগালকে। অবশেষ দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাশিয়া বিশ্বকাপে নাম লেখাল পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি।

বর্তমান দল কেমন

হঠাৎ করেই হারিয়ে যায় সেনেগাল। কেবল বিশ্বমঞ্চই নয় আফ্রিকার নেসনস কাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা। ২০০২ সালের পর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে জায়গা হলো সেনেগালের। বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার আছেন যারা রাশিয়ায় ঝলক দেখাতে পারেন। মৌসা সো, পেপে কন্তে, ম্যামে বিরাম ডিউফ, সাদিও মানের মতো তারকারা প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রধান কোচ

২০০২ সালে দলের অধিনায়ক আলিও সিসেই এখন সেনেগাল দলের কোচ। ২০১৫ সালের পর থেকে সেনেগালকে কোচিং করাচ্ছেন তিনি। ক্যারিয়ারে সেনেগাল অনূর্ধ্ব ২৩ দলকে। খেলোয়াড়ি জীবনে লিলে, পিএসজি, বার্মিংহাম সিটির মতো ক্লাবগুলো দাপিয়ে বেড়ান আলিও।

সৌদি আরবের বিশ্বকাপ ইতিহাস

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম অভিষেক হয় সৌদি আরবের। প্রথমবারই বাজিমাত করে দেশটি। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নাম লেখায় সৌদি। ১৬ দলের লড়াইয়ে সুইডেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় তারা। এরপর ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে সৌদি আরব। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে খেলাই হয়নি আরব দেশটির। অবশেষে জাপানকে ১-০ হারিয়ে ১২ বছর পর বিশ্বকাপে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল সৌদি আরব।

বর্তমান দল কেমন

সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপ ছাড়াও বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে ছিল না সৌদি আরবের নাম। ২০০৭ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। এরপর ২০১১ এবং ২০১৫ এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি দেশটি। দিন যত যায়, ততই যেন ধার কমতে থাকে সৌদি ফুটবলের। শেষমেশ রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে স্বস্তিতে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা। সবাই মনেপ্রাণে চাচ্ছে এবার অনন্ত ভালো কিছু করবে সৌদি। বর্তমান দলে বেশ কিছু ফুটবলার আছেন-ওসামা, তাইসির আল জাসিম, মুহান্নাদ, নওয়াফ, ফাহাদ আল মুয়াল্লাদ, ইব্রাহিম মোহাম্মদ, নাসের আল সামরানি, নায়েফ হাজী। এই কয়েকজন ফুটবলার রাশিয়া বিশ্বকাপে আলো ছড়াতে পারেন।

প্রধান কোচ

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল থেকে বাদ পড়া এদগার্দো বাউজাকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়েছে সৌদি আরব। মেসিদের কোচিং করানো ছাড়াও বাউজা ছিলেন সাও পাওলো, কোলন, আল নাসের দলের কোচ। খেলোয়াড়ি জীবনে আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগ সামলান বেশ ভালোভাবেই।

ইরানের বিশ্বকাপ ইতিহাস

এখন পর্যন্ত মোট পাঁচবার বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পেয়েছে ইরান। ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮। ৭৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে উঠে ভালো করতে পারেনি তারা। গ্রুপ পর্বে এক জয়ও পায়নি ইরান। ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের প্রথম ম্যাচেই যুগোস্লাভিয়া হারিয়ে উৎসবে মাতোয়ারা হয় মধ্য পাচ্যের এই দেশটি। বিশ্বকাপের অর্জন বলতে এটুকুই। এরপর ২০০৬ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে জায়গা পেলেও গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পায়নি ইরান।

বর্তমান দল কেমন

ইরানের বর্তমান দলটা বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। নতুন-পুরনো মিলে দারুণ কিছু ফুটবলার রয়েছে স্কোয়াডে। সর্দার আজমুন ও মেহদি তারেমি, আসকান দেজাঘার মতো বাঘা বাঘা তারকারা ইরানের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। ২০১৫ সালের এশিয়ান কাপে ইরান দারুণ পারফর্ম করে। সে বছর ইরানের হয়ে আলো ছড়ান আসকান ও রেজা। এ ছাড়া দলে রয়েছে আলী রেজার মতো নামকরা গোলরক্ষক। রাশিয়া বিশ্বকাপে বড় দল গুলোর অঘটনের কারণ হতে পারে ইরান।

প্রধান কোচ

কার্লোস কুইরোজের অধীনে রাশিয়া যাচ্ছে ইরান। ক্যারিয়ারে তিনি একজন সফল কোচ। রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও কোচিং করান এই পর্তুগীজ। ১৯৮৯-১৯৯১ পর্যন্ত পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ ছিলেন কার্লোস। সে সময় টানা দুইবার পর্তুগীজ যুবারা বিশ্বকাপ মুকুট উঁচিয়ে ধরে। এটাই কার্লোসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিজ দেশ পর্তুগালকে নকআউট পর্বে নিতে অনেক অবদান ছিল কার্লোসের। সবমিলে একজন ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’ কোচের ছায়ায় রাশিয়া বিশ্বকাপে নজর কাড়তে পারে ইরান।
সূত্র: ফিফা ডটকম।

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/জেইউএম)

Thursday, November 2, 2017

বিবাহ করবেন কেমন নারীকে? -ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি


কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী বিয়ের জন্য যে সমস্ত বিষয়গুলো দেখে নারীদেরকে বাছাই করা উচিত, সে সম্পর্কে কিছু বিষয় বর্ণনা করা হলো।

১. “ঈমান”
বিবাহের জন্য সবার প্রথম পাত্র ও পাত্রী উভয়ের ঈমানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাওহীদে বিশ্বাসী, নামাযী এবং সুন্নতের অনুসারী এমন কারো জন্য বেনামাযী, কবর, মাযার আর পীর পূজারী, মনপূজারী অথবা দুনিয়া পূজারী, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র বা প্রচলিত শিরকি-কুফুরীর রাজনীতির সাথে জড়িত এমন কাউকে বিয়ে করা যাবেনা। মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেন, “আর তোমরা মুশরেক নারীদেরকে বিয়ে করোনা, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ঈমান গ্রহণ করে। নিশ্চয়ই একজন মুসলমান ক্রীতদাসী, মুশরেক স্বাধীনা নারী অপেক্ষা উত্তম, যদিও (দুনিয়ার চাকচিক্য, সৌন্দর্য অথবা সম্পদের কারণে) তাদেরকে তোমাদের কাছে ভালো লাগে। এবং তোমরা (নারীরা) কোন মুশরেক পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ো না, যে পর্যন্ত না সে ঈমান আনে। একজন মুসলমান ক্রীতদাস একজন স্বাধীন মুশরেকের তুলনায় অনেক ভাল, যদিও তোমরা তাদের দেখে মোহিত হও। তারা (কাফের/মুশরেক) তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করে, আর আল্লাহ তাঁর আদেশের মাধ্যমে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। আর তিনি মানুষকে নিজের নির্দেশ বাতলে দেন, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” [সুরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২২১ এর তর্জমা]
২. “দ্বীনদারী বা ধার্মিকতা”
দুনিয়াতে মুসলমান অনেক ধরণেরই আছে কিন্তু, এই দুনিয়ার মাঝে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হচ্ছে একজন নেককার স্ত্রী। সম্পদ বা সৌন্দর্যের লোভে বেদ্বীন বা দ্বীনের মাঝে ত্রুটি আছে এমন কাউকে বিয়ে করলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের অনেক কল্যান ও শান্তি থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এ প্রসংগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, “মানুষ সাধারণত নারীদের মাঝে চারটি গুণ দেখে বিবাহ করে, তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং ধর্ম। (কিন্তু এমন করবেনা), তোমরা বিয়ের জন্য ধার্মিক নারীদেরকে অগ্রাধিকার দাও। তোমরা যদি ধার্মিক নারীদেরকে অগ্রাধিকার না দাও, তাহলে অবশ্যই তোমাদের দুই হাত ধূলায় ধূসরিত হবে (অর্থাৎ, নিশ্চয়ই সেটা তোমাদের জন্য মন্দ ও অকল্যান ডেকে আনবে)।
[সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মিশকাতঃ ৩০৮২, ৩০৯০, ‘বিবাহ’ অধ্যায়।]
৩. “পর্দানশীল ও বিনয়ী”
বেপর্দা নারী মানেই অহংকারী, অহংকারী কারো জন্য স্বামীর আনুগত্য বজায় রাখা খুবই কষ্টকর, আর এদের মাঝে খুব কম সংখ্যক নারীই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অথচ শিক্ষিত/অশিক্ষিত, আলেম হোক আর জালেম হোক, শতকরা ১০০ ভাগ পুরুষ স্ত্রীর কাছ থেকে আনুগত্য কামনা করে, এবং স্ত্রীর অবাধ্যতাকে ঘৃণা করে।
“একবার এক সফরে রাসুল (সাঃ) সাহাবাদেরকে নিয়ে একটা পাহাড়ে উঠলেন। সেখানে হঠাত তারা একটা কাক দেখতে পেলেন, যার পা ও ঠোট ছিলো লাল। এই ধরণের কাক আসলে খুবই বিরল, দেখতে পাওয়া যায়না বললেই চলে। সাহাবারা এতো বিরল একটা জিনিস দেখে আশ্চর্য হয়ে বলাবলি করতে লাগলেন। রাসুল সাঃ তখন বললেন, এইরকম কাকের মাঝে লাল পয ও লাল ঠোটওয়ালা কাক যেমন অত্যন্ত বিরল, তেমনি নারীদের মাঝে যারা বেপর্দা চলাফেরা করবে তাদের মাঝে খুব কম সংখ্যক নারীই জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
৪. “ইলম ও আমল”
ইলম ছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষা বা বিপদ-আপদ ও ফেতনার সময়ে ঈমান নিয়ে টিকে থাকা খুবই কষ্টকর, যা বর্তমান যুগে খুব বেশি অনুভূত হচ্ছে। সংগী/সংগিনীর যদি ইলমের ব্যপারে ত্রুটি থাকে, তাহলে তার প্রভাব আপনার উপরেও পড়বে। রাসুল সাঃ বলেছেন, “একজন মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপরেই আছে।”
থিওরিটিক্যালি স্বামী/স্ত্রী একজন অপরজনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হওয়ার কথা। সুতরাং, জ্ঞানী, ইসলামী জীবন-যাপনে আগ্রহী ও অভ্যস্ত এমন কাউকে বিয়ে করতে চেষ্টা করুন যে আপনার দ্বীনের ব্যপারে সাহায্যকারী হবে, বাঁধা হয়ে দাঁড়াবেনা।
“প্রেমময়ী” এবং “অধিক সন্তান জন্মদানকারী”
“এক ব্যক্তি নবী করীম (সাঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলল, আমি একজন সুন্দরী এবং উঁচু বংশের রমনীর সন্ধান পেয়েছি, কিন্তু সে কোন সন্তান প্রসব করে না (বন্ধ্যা) । আমি কি তাকে বিবাহ করব? তিনি বলেন, না। অতঃপর, সে ব্যক্তি দ্বিতীয়বার এসে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলো, তিনি পুনরায় তাকে নিষেধ করলেন। পরে তৃতীয়বার সে ব্যক্তি এলে তিনি বলেন, তোমরা এমন স্ত্রীলোকদের বিবাহ করবে, যারা স্বামীদের অধিক মহব্বত করে এবং অধিক সন্তান প্রসব করে। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (পূর্ববর্তী উম্মতের উপর) গর্ব প্রকাশ করব।”
৫. “প্রেমময়ী”
মানুষ স্বামী/স্ত্রীর কাছ থেকে যা কামনা করে, তা না পেলে অনেকেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। আর এই কুপথে না গেলেও, সারাজীবনের জন্য সেটা একটা অভিশাপ হিসেবেই থেকে যাবে। তাই, নারী পুরুষ উভয়ের উচিত সংগির হক্ক পূর্ণভাবে আদায় করার ব্যপারে সজাগ থাকে।
৬. “অধিক সন্তান জন্মদানকারী”
রাসুল সাঃ পুরুষদেরকে অধিক সন্তান জন্মদানকারী নারীদেরকে বিয়ে করার উতসাহিত করেছেন, এর দ্বারা উম্মতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে যা নিয়ে কেয়ামতের দিন রাসুল সাঃ গর্ব করবেন। এছাড়া সন্তানদেরকে হাদিসে ‪#‎রিযক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কিছু ওলামা বলেছেন, কোন নারী অধিক সন্তানদানকারী হবে কিনা, সেটা বোঝার জন্য তার মা ও খালার সন্তানের সংখ্যা কত, তার দিকে লক্ষ্য করতে বলেছেন। কোন মেয়ের মা ও খালা যদি অধিক সন্তান জন্মদানকারী হয়ে থাকে, তাহলে আশা করা যেতে পারে সেও অধিক সন্তান জন্মদানকারী
৭. “কুফু বা সমতা”
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা বিবাহের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং ‘কুফু’ (সমতা) দেখে বিবাহ কর।”
[ইবনু মাজাহঃ ১৯৬৮; হাদীসটি সহীহ শায়খ আলবানী। সিলসিলা সহীহাহঃ ১০৬৭]
বিয়ের সময় নারী ও পুরুষের মাঝে অবশ্যই কুফু বা সমতার দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। দাড়ী কামাতে অভ্যস্ত, হারাম ইনকাম এমন কোন পুরুষের সাথে যদি ক্বুরানের হা’ফিজাহ কোন নারীকে বিয়ে দেওয়া হয়, আর বিয়ের পরে স্বামী তাকে মডার্ণ ড্রেস পড়তে বাধ্য করে, হিন্দী গান শোনানোর বায়না ধরে তাহলেতো প্রবলেম। আবার কোন নারী যদি বিয়ের পরে যেকোন উপায়ে স্বামীকে অঢেল সম্পত্তি অর্জন করতে চাপ দেয়, দাঁড়ি রাখা যাবেনা বায়না ধরে, মা-বাবার হক্ক আদায়ে বাঁধা দেয়…এই সংসারে আর যাই হোক সুখ নামক নামক অচিন পাখিটা কখনো ধরা দেবেনা। তাই বিয়ের পূর্বে সার্বিক দিক বিবেচনা করে কুফু রক্ষা করা উচিৎ।
৮. “কুমারী”
নারীদেরকে আল্লাহ তাআ’লা প্রেমময়ী, সহজাত লজ্জাবোধ ও কমনীয়তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যা পর্দানশীল কুমারী নারীদের মাঝে সবচাইতে বেশি থাকে। এইজন্য আল্লাহ তাআ’লা জান্নাতী নারীদেরকে চিরকুমারী করে সৃষ্টি করেছেন। রাসুল সাঃ বলেছেন, “তোমরা কুমারী মেয়েদেরকে বিয়ে করো, কারণ তারা মিষ্টিভাষী, অধিক সন্তান জন্মদানকারী এবং অল্পে তুষ্ট হয়ে থাকে।” [তাবারানি, হাদীসটি হাসান সহীহ]
পূর্বে বিয়ে হয়েছে, এমন কেউ স্বভাবতই ম্যাচিউরড হবে এবং অনেক হিসাবী হবে। তবে অকুমারী মেয়েদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় কোন বিষয়, এমন নয়। স্বয়ং রাসুল সাঃ এর স্ত্রীদের মাঝে মা আয়িশাহ রাঃ ছাড়া অন্য সব স্ত্রী ছিলেন অকুমারী। এছাড়া একজন সাহাবী অকুমারী মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন যাতে করে সে তার ৭ জন ছোট বোনদের দেখাশোনা করতে পারে।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাঃ এর যুগে এক মহিলাকে বিবাহ করলাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ সাঃ এর সাথে সাক্ষাত করলে তিনি বলেন, হে জাবির! তুমি কি বিবাহ করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, কুমারী না বিধবা? আমি বললাম, বিধবা। তিনি বললেন, কেন তুমি কুমারী মেয়ে বিবাহ করলে না, তাহলে তার সাথে তুমি রসিকতা ও কৌতুক করতে পারতে? আমি বললাম, আমার কয়েকটি বোন আছে। তাই আমি আমার ও আমার বোনদের মধ্যে একটি কুমারী মেয়ের প্রবেশ করাকে সংকটজনক বোধ করলাম। তিনি বলেন, তাতো ভালো কথা।
[বুখারীঃ ২০৯৭, মুসলিমঃ ৭১৫, তিরমিযীঃ ১১০০]

Sunday, June 4, 2017

কনস্টান্টিনোপল বিজয়

"কনস্টান্টিনোপল বিজয়"

আজ ২৯ শে মে। ১৪৫৩ সালের এই দিনে ইস্তাম্বুল বিজয়ের দ্বারা রাসুলাল্লাহ (সা) এর ভবিষ্যৎবাণী সত্য প্রমাণ করেন সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ(রহ)।
আজও তুরস্কের অনেক পিতামাতা তাদের আদরের সন্তানের নাম ‘মুহাম্মাদ ফাতিহ’ রেখে থাকেন। কেননা এ নামটি ইসলামী ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।উসমানী খিলাফতের সপ্তম সুলতান সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা ,যাঁর মাধ্যমে নবী করিম (সাঃ) এর এর একটি ভবিষ্যতবাণী সত্য হয়েছে।হযরত বিশর বিন সুহাইম (রাঃ) থেকে সে ভবিষ্যত বাণীটি বর্ণিত হয়েছে-
ﻟﺘﻔﺘﺤﻦ ﺍﻟﻘﺴﻄﻨﻄﻨﻴﺔ ﻓﻠﻨﻌﻢ ﺍﻷﻣﻴﺮ ﺃﻣﻴﺮﻫﺎ ﻭﻟﻨﻌﻢ ﺍﻟﺠﻴﺶ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﺠﻴﺶ
“নিশ্চয়ই তোমরা কন্সট্যান্টিপোল বিজয় করবে।তার আমীর উত্তম আমীর হবে এবং সেই বাহিনী উৎকৃষ্টতম সেনাবাহিনী হবে।”(মুসনাদে আহমদ ৪/৩৩৫, হাদীস : ১৮৯৫৭; মুসতাদরাকে হাকেম ৫/৬০৩, হাদীস : ৮৩৪৯;মুজামে কাবীর, তাবারানী, হাদীস : ১২১৬)

মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের রাজধানী কন্সট্যান্টিপোল জয় করেন।১৬ই মুহরম ৮৫৫ হিজরী মোতাবেক ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৪৪৫ খৃস্টাব্দে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ উসমানী খিলাফতের দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন।তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর,কিন্তু অসম সাহস,অতুলনীয় প্রজ্ঞা, নিপুণ রণকৌশল ও গভীর ঈমানী জযবায় অল্প সময়েই তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের ছাড়িয়ে যান।দীর্ঘ ৩০ বছর তিনি সম্রাজ্য পরিচালনা করেন।তাঁর শাসনামলে যেমন ইসলামের বিজয়াভিজানে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল তেমনি সকল শ্রেণীর ও ধর্মের মানুষ ন্যায়বিচার, জান-মালের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার লাভ করেছিল।প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল ইসলামী শাসনব্যবস্থার সুফল।

সুলতান মুহাম্মাদ ফাতেহ এর শাসনামল বিভিন্ন দিক থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।তবে যা তাঁকে উম্মাহর হৃদয়ে অমর করে রেখেছে তা হলো কন্সট্যান্টিপোল বিজয়।ধর্মীয়,রাজনৈতিক ও ভৌগলিক দিক থেকে কন্সট্যান্টিপোল ছিল পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর।খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতক থেকেই তা ছিল বাইজান্টাইন সম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নগরী।কন্সট্যান্টিপোল নগরীর তিন দিকে জল, একদিকে স্থল।পশ্চিমে বসফরাস প্রণালী,দক্ষিণে গোল্ডেন হর্ণ ও উত্তরে মারমারা উপসাগর।তাই ভৌগলিক দিক অবস্থানের কারণে একে তখন বিশ্বের সুরক্ষিত নগরীগুলোর মধ্যে গণ্য করা হত।এছাড়া নগরীর প্রতিরক্ষাব্যাবস্থাও ছিল অতুন্ত শক্তিশালী। গোটা নগরীর চারপাশে ছিল একাধিক দুর্ভেদ্য প্রাচীর ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র প্রহরা।দুই দিক সাগর দ্বারা বেষ্টিত এবং একদিকে ছিল দুই দেয়াল গভীর পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত।এসব কারণে কন্সট্যান্টিপোল ছিল সে বিচারে এক অজেয় দুর্গ।এখানে মনে রাখতে হবে যে, সে যুগটা মিসাইল ও যুদ্ধবিমানের যুগ ছল না। তাই উপরোক্ত ব্যবস্থাগুলোই তখন নগরীর সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট ছিল।কন্সট্যান্টিপোল জয়ের জন্য সুলতান মুহাম্মাদ ফাতিহ(রহ) তৎকালীন বিশ্বের সর্বাধুনিক রণপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন।সে সময়ের সবচেয়ে দূর পাল্লার কামান তিনিই তৈরি করেছিলেন।প্রস্তুতি সমাপ্ত করার পর তিনি অভিযান আরম্ভ করেন।

উসমানী সেনারা বারবার শহরের বাইরের পরিখা পার হওয়ার চেষ্টা করছিল,কিন্তু বাইজানটাইন সেনাদের শক্ত প্রতিরোধে সাময়িকভাবে পিছু হটে তারা।উসমানী সেনাবাহিনীর সদস্যরা বৃক্ষকাণ্ডের সাহায্যে পরিখার উপর সেতু নির্মাণ করে কিন্তু গ্রিকরা তা সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়।এভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলতে থাকে।

ইতিমধ্যেই বাইজানটাইন সম্রাটকে সাহায্য করার জন্য চারটি যুদ্ধজাহাজ এসে পৌঁছায় অন্য খ্রিস্টান দেশ থেকে।সুলতান জাহাজগুলোকে আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

তার স্থল বাহিনী নগরীর পূর্ব দিকে অবস্থান নিল এবং নৌবাহিনীর জাহাজগুলো বসফরাস প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ল।কিন্তু বসফরাস প্রণালী থেকে ‘গোল্ডেন হর্ণে’ প্রবেশ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।কেননা গোল্ডেন হর্নের মুখ শিকল দ্বারা বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল এবং বাইজেন্টাইন রণতরীগুলো সেখানে অবস্থান নিয়ে গোলা নিক্ষেপ করছিল।

প্রচন্ড যুদ্ধের পরও উসমানী নৌবহর গোল্ডেন হর্ন পদানত করতে সক্ষম হল না।অন্যদিকে বন্দর সুরক্ষিত থাকায় বাইজেন্টাইন বাহিনী তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল পূর্বদিকে,সুলতানের স্থল বাহিনীকে মোকাবেলা করার জন্য।তাই তাদের শক্তিকে বিভক্ত করার জন্য এবং দুই দিক থেকে একযোগে আক্রমণ করার জন্য উসমানী নৌবহরের গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করা ছিল অপরিহার্য।প্রায় দুই সপ্তাহ অবিরাম যুদ্ধের পরও নৌপথে বিজয়ের কোন লক্ষণ দেখা গেল না।

অবশেষে সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এমন এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা পৃথিবীর যুদ্ধের ইতিহাসে একমাত্র বিরল ও বিস্ময়কর হয়ে আছে।পাশ্চাত্যের কট্টর ঐতিহাসিকরা পর্যন্ত এ ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ না করে পারেনি। গিবনের মত ঐতিহাহিকও একে ‘মিরাকল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।সুলতান ফাতিহ (রহ) মুজাহিদদের আদেশ দিলেন রণতরীগুলো ডাঙ্গায় তুলে দশ মাইল পথ অতিক্রম করে গোল্ডেন হর্নে নামাতে হবে, এই দীর্ঘ পথ পুরোটাই ছিল পাহাড়ী উঁচুনিচু ভূমি। এর উপর দিয়ে সত্তরটি রণতরী টেনে নেয়া ছিল এককথায় অসম্ভব।কিন্তু সুলতান ফাতেহ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলেন।

সুলতানের আদেশে ১০ মাইল পথ পুরো তক্তা বিছানো হল এবং তাতে চর্বি মাখিয়ে পিচ্ছিল করা হল এবং এর উপর দিয়ে রণতরীগুলো টেনে নিয়ে যাওয়া হল।এভাবে টিলা ও পাহাড়ের উপর দিয়ে এক রাতের মধ্যেই ৮৮ টি রণতরী তিনি গোল্ডেন হর্ণে প্রবেশ করাতে সক্ষম হলেন।৮৮ টি জাহাজের এই মিছিল সারারাত্রি মশালের আলোতে ভ্রমণ করেত থাকে।বাইজানটাইন সৈন্যরা কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীর থেকে বসফরাসের পশ্চিম তীরে মশালের দৌড়াদৌড়ি লক্ষ্য করে।কিন্তু অন্ধকারের কারণে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।
অবশেষে ভোরের আলো যখন রহস্যের পর্দা উন্মোচন করে দেয়,ততক্ষণে মুহাম্মাদ আল ফাতিহের রণতরীগুলো ও ভারী তোপখানা গোল্ডেন হর্নের উপরাংশে পৌঁছে গেছে।গোল্ডেন হর্নের মুখে প্রহরারত বাইজানটাইন নৌ সেনারা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে দেখল যে,উসমানী রণতরীগুলো মৃত্যুদূতের মতো তাদের পিছন দিক থেকে ধেয়ে আসছে।এই ঘটনা ত্থেকে একটি প্রবাদ তৈরি হল, “যখন পানির জাহাজ ডাঙ্গায় চলবে তখন বুঝবে কন্সট্যান্টিপোলের পতন অত্যাসন্ন।”

চূড়ান্ত আক্রমণের আগে সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ(রহ) বাইজেন্টাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিনকে নগরী সমর্পণের পয়গাম পাঠালেন এবং নগরবাসীর জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিন্তু সম্রাট তা গ্রহণ করলেন না।এবার সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের প্রস্তুতি নিলেন।ঐতিহাহিকগণ বলেন, “আক্রমণের আগে সুলতান ফাতিহ (রহ) বাহিনীর অধিনায়কদের তলব করে সকল মুজাহিদিকে এই পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার আদেশ করলেন যে,কন্সট্যান্টিপোলের বিজয় সম্পন্ন হলে রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এর একটি ভবিষ্যত বাণী সত্য হবে এবং তাঁর একটি মুজিজা প্রকাশিত হবে। অতএব কারো মাধ্যমে যেন শরীয়াতের কোন বিধান লঙ্ঘিত না হয়।গীর্জা ও উপসানালয়গুলোর যেন অসম্মান না করা হয়,পাদ্রী,মহিলা,শিশু এবং অক্ষম লোকদের যেন কোন ধরনের কষ্ট না দেওয়া হয়…।”
৮৫৭ হিজরীর ২০ জুমাদাল উলার রজনী মুজাহিদগণ দোয়া ও ইবাদাতের মধ্যে অতিবাহিত করেন।ফজরের নামাজের পর সুলতান চূড়ান্ত আক্রমণের আদেশ দিলেন এবং ঘোষণা করলেন যে,“ইনশাআল্লাহ আমরা যোহরের নামাজ হাজিয়া সোফিয়ায় আদায় করব।”

এরপর নতুন করে গোলাবর্ষণ শুরু হয়।উসমানী বাহিনীর প্রচণ্ড গোলাবর্ষণে দুর্গের মজবুত দেয়ালে ভাঙ্গন ধরে।এই সময় সুলতান তার জেনেসারি সৈন্যদের নিয়ে তৃতীয়বারের মত শহরের উপর চরম আঘাত হানেন।

দ্বিপ্রহর পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ভীষণ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে থাকে।কিন্তু বাইজানটাইন বাহিনী অসাধারণ বীরত্বে একটি সৈন্যও শহরে প্রবেশ করতে পারেনি। অবশেষে সুলতান তার বিশেষ বাহিনী জেনেসারি বাহিনীকে সাথে করে সেন্ট রোমান্স এর ফটকের দিকে অগ্রসর হন।জেনেসারি বাহিনীর প্রধান হাসান আগা তার ত্রিশ জন বীর সঙ্গীকে সাথে করে প্রাচীরের উপর আরোহণ করেন।হাসান ও তার আঠার সাথীকে প্রাচীর থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।তারা শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন।অবশিষ্ট বারোজন প্রাচীরের উপর দৃঢ় অবস্থান করতে সক্ষম হন।তারপর উসমানী বাহিনীর অন্যান্য দলও একের পর এক প্রাচীরে আরোহণ করতে সক্ষম হন। এমনিভাবে কন্সট্যান্টিপোলের প্রাচীরে চন্দ্রখচিত লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।

গ্রিক সেনাপতি গোয়াসটিনিয়ান অসাধারণ বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে গুরুতর আহত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হনে।এতে করে বাইজানটাইন সৈন্যদের মনোবল ভেঙে পড়ে।বাইজানটাইন সম্রাট কন্সট্যান্টিন এতক্ষণ বীরত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছিল।কিন্তু সে তার কিছু অসাধারণ বীর যোদ্ধার সাহস হারানোর পর নিরাশ হয়ে পড়ে।সে উচ্চস্বরে বলে-“এমন কোন খ্রিস্টান নেই কি,যে আমাকে খুন করবে।” কিন্তু তার আহ্বানে সাড়া না পেয়ে সে রোম সম্রাট(কায়সারদ
ের) বিশেষ পোশাক খুলে দূরে নিক্ষেপ করে,উসমানী সেনাবাহিনীর উন্মত্ত তরঙ্গের মধ্যে প্রবেশ করে সত্যিকার সৈনিকের মত বীরত্বের সাথে লড়তে লড়তে নিহত হয়।তার মৃত্যতে ১১০০ বছরের বাইজেন্টানের সেই রোম সম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে ,যার সূচনা হয়েছিল প্রথম কন্সট্যান্টিনের হাতে এবং বিলুপ্তও হল আরেক কন্সট্যান্টিনের হাতে । তারপর থেকে কাযসার় উপাধিই ইতিহাসের উপখ্যানে পরিণত হয়ে যায়।

এভাবে ইহ-পরকালের সর্দার মহানবী (সাঃ) এর এই বাণী সত্যে প্রমাণিত হয়-“কায়সারের ধ্বংসের পর আর কোন কায়সার জন্ম নিবে না।”
আল্লাহ তাআলা তাঁর মুজাহিদ বান্দার কথাকে সত্য করেছেন।জোহরের সময় সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহ) বিজয়ীর বেশে কন্সট্যান্টিপোল নগরীতে প্রবেশ করেন।ইংরেজী তারিখ হিসাবে দিনটি ছিল ২৯ মে ১৪৫৩ ঈ.। সেন্ট রোমান্সের উপর(বর্তমান নাম TOP KOPY) উসমানী পতাকা উড়ছিল। সুলতান ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সিদজায় পড়ে গেলেন।

নগরীর অধিকাংশ খ্রিস্টান হাজিয়া সোফিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিল।তারা এই বিশ্বাসে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল যে,মুসলমানরা এই পবিত্র গির্জা দখল করতে পারবে না।কারণ,খ্রিস্টানরা এই গির্জাকে ইশ্বরের পবিত্র গৃহ বলে বিশ্বাস করত।এই গির্জার একজন ধর্মীয় যাজক সাধারণ খ্রিস্টানদের প্রতিশ্রুতি দেন, “উসমানীরা রোমান বাহিনীকে তাড়া ককরে সেন্ট সোফিয়া গির্জার ওই জায়গা পর্যন্ত চলে আসবে,যেখানে সম্রাট কনস্টান্টাইনের নির্মিত পবিত্র স্তম্ভ রয়েছে।কিন্তু এর পরপরই শুরু হবে উসমানীদের বিপর্যয়।তখন আকাশ থেকে স্বর্গীয় দূত তলোয়ায় হাতে নেমে আসবেন এবং ঐ স্তম্ভের গোড়ায় অবস্থানকারী ধর্মীয় যাজকদের হাত তা তুলে দিবেন।স্বর্গীয় দূত যাজকে বলবেন,যাও প্রতিশোধ নাও।তখন ঐ যাজক দূতের দেয়া তলোয়ায় হাতে উসমানীদের হত্যা শুরু করবেন।পুরো আনাতোলিয়া থেকে তাদের ধাওয়া করে ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।”
উসমানী বাহিনী যখন ঐ পবিত্র স্তম্ভ পার হয়ে হাজিয়া সোফিয়ার মূল ফটকে পৌঁছে যায় তখন গির্জায় আশ্রয়গ্রহণকারী খ্রিস্টানরা ঐশী সাহায্যের আশায় প্রহর গুণছিল।এমন সময় খোলা তলোয়ায় হাতে তাদের সামনে উপস্থিত হন সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ।সেদিন গির্জায় আশ্রয় নেয়া একজন খ্রিস্টানকেও তিনি হত্যা করেননি,বরং সবাইকে নিরাপত্তা দিয়ে ইসলামের উদার সৌন্দর্যের পয়গাম পৌঁছে দেন তিনি।

সুলতান তাদেরকে অভয় দিলেন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা দান করলেন।এরপর আযান দেওয়া হল।সাড়ে এগারো শত বছর যাবৎ যেখানে ‘তিন খোদা’র উপাসনা হচ্ছিল সেখানে আজ তাওহীদের ধ্বনি উচ্চারিত হল।সকল ছবি ও মূর্তি সরিয়ে ফেলা হল।মুসলিম বাহিনী জোহরের নামাজ হাজিয়া সোফিয়ায় আদায় করল।সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতিহ (রহ) একে মসজিদে পরিণত করার ফরমান জারি করলেন।কেননা প্রথমত কন্সট্যান্টিপোলের সম্রাট আত্মসমর্পণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই সুলতান এই গীর্জাকে পূর্বাবস্থায় বহাল রাখতে বাধ্য ছিল না। তদুপরি এটি ছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানদের কেন্দ্রীয় গির্জা ।তাই এর সাথে বহু কুসংস্কার ও অলৌকিকতার বিশ্বাস জড়িত হয়েছিল। এই কুসংস্কারের মূলোৎপাটন প্রয়োজন ছিল।কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের পর সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ (রহ) নগরীর খ্রিস্টান অধিবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করলেন এবং তাদেরকে তাদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করেন।কন্সট্যান্টিপোল বিজয়ের এই ঘটনার পর কন্সট্যান্টিনোপল যা বর্তমানে ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত উসমানী খিলাফতের রাজধানীর রূপ লাভ করে এবং বহু শতাব্দী পর্যন্ত আলমে ইসলামীর মধ্যে তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

সম্ভবত এই ঐতিহাসিক ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পরাজিত বাইজেন্টাইনদের সাথে সুলতান মুহাম্মাদের আচরণ। তিনি শহরের অধিবাসীদের হত্যা করেননি , বরং কর পরিশোধ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদেরকে কনস্ট্যান্টিনোপোলে থেকে যেতে উৎসাহিত করেন। কনস্ট্যান্টিনোপোলের গ্রীক অর্থোডক্স বিশপকে তিনি শহরে থেকে যাওয়ার এবং তাঁর হয়ে শহরের খ্রিস্টানদের শাসন করার ব্যাপারে জোর প্রদান করেন। অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য প্রান্তে “ধর্মীয় সহিষ্ণুতা” ছিল এক অপরিচিত এবং বিদেশী ধারণা। অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সুলতান মুহাম্মাদ ইসলামী নিয়ম-নীতির অনুসরণ করেন এবং কনস্ট্যান্টিনোপোলের খ্রিস্টানদেরকে তাদের নিজ ধর্ম পালনের অধিকার ও স্বাধীনতা প্রদান করেন। যুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা ও পারঙ্গমতা এবং একইসাথে ন্যায়পরায়ণ গুণাবলীসমূহের কারণে তিনি লাভ করেছেন ﺍﻟﻔﺎﺗﺢ (“আল-ফাতিহ্”, ইংরেজিঃ the Conqueror, বাংলায় “বিজেতা”) উপাধি, যে নামে ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

তথ্যসূত্র-
১) জাহানে দিদাহ- শাইখুল ইসলাম
আল্লামা তাকী উসমানী (দা বা)
২) Encyclopedia of Islam
৩) wikipedia
৪)সুলতান কাহিনী(তামিম রায়হান)
৪) ইসলামের ইতিহাস
৫) Encyclopedia of World History
৬) History of Decline & Fall of
Roman Empire and History of
Christianity- Edward Gibbon
৭)মাসিক আল-কাউসার
( সংগৃহিত)

লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক।

লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম বিএমএ লং কোর্সের অফিসার। লে: কর্নেল হাসিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৮ বছর অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করার পরে ২০১০ সালে ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার সময় ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ARDOC অফিসের সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত হন। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের অধিনায়ক লে.কর্নেল হামিদ এবং র‌্যাব কর্মকর্তারা হাসিনকে জোর করে গাড়ীতে তুলে নেয়। এরপরে রাজেন্দ্রপুরে গহীন অরণ্যের মধ্যে অন্ধকার ছোট এক রুমে দীর্ঘ ৪৩ দিন চোখ বাঁধা, হ্যান্ডকাফ লাগানো, বিভিন্ন বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, রাতভর অমানুষিক নির্যাতন, এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জেরা। ফ্লোরে শুয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করতে বলা হতো। যেকোনো দিন ক্রসফায়ারের ভয় দেয়া হতো, এমনকি বলা হতো শেষ দোয়া করে নাও। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মোবাইল ফোন করে বোনদের এবং পরিবারের সদস্যদের বলতে বাধ্য করা হতো, যাতে ওরা উচ্চ বাচ্য না করে।

এরপরে কোর্টমাশাল করে সাজানো বিচারে ৪ বছর ৩ মাস কারাদন্ড দিয়ে লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। সাথে চাকরি থেকে ডিসমিসাল। অপরাধ হিসাবে মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়, হরকাতুল জিহাদ এবং হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগের বানোয়াট অভিযোগ। হাসিনের পরিবার এবং তার কোর্সেমেটরা বলেন, জঙ্গি যোগাযোগের এই অভিযোগ মিথ্যা। তাহলে কি ছিল তার অপরাধ? জানা যায়, হাসিনুর ছিলেন প্রচন্ডভাবে ভারত বিরোধী।

সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বিরল সাহসী অফিসারদের একজন ছিলেন লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক, যিনি তিন তিন বার ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেছেন। তিনি ছিলেন পাহাড়ে শান্তিবাহিনীর যম। তৎকালীন এই ‘কালা ক্যাপ্টেন’ খ্যাত হাসিনের ভয়ে শান্তিবাহিনী দৌড়ে ভারতে পালাতো। হাসিনের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ভারতীয় মদদপুষ্ট ২৬০০ সন্ত্রাসীদের তালিকা ছিল। বাংলাদেশের পাবর্ত্য অঞ্চলে ভারত কতৃক শান্তিবাহিনী সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসীদের অস্ত্র দেয়া সহ পাহাড় অশান্ত করার ভারতের তাবৎ তৎপরতাকে কঠিন করে দিয়েছিলেন হাসিনুর। ফলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের রোষানলে পড়েন হাসিনুর। তাদের চাহিদা মোতাবেক শেখ হাসিনার সরকার লে.কর্নেল হাসিনকে অপহরন করে গোপন স্থানে আটকে রাখে দীর্ঘদিন, পরিবার পরিজনকে কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। ভারতীয় গোয়েন্দারা জেরা করে দোভাষীর সাহায্যে। অবশেষে জঙ্গিদের সাথে যোগসাজসের মিথ্যা অভিযোগে (ভারতীয়) হাসিনার সরকারের দয়ায় চাকুরিচ্যুত হয়ে ৫১ মাস কারবাস। হাসিনুরের কোর্সমেটরা যখন সিনিয়র জেনারেল, তখন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ এক কমান্ডো হাসিনুর জীবন বাঁচানোর কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। কেবল দেশপ্রেমের অপরাধে একজন সার্ভিং লেফটেনেন্ট কর্নেলকে গুম হতে হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের অফিস থেকে- কল্পনা করা যায়!!!

বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানাতে গিয়ে প্রথমেই তারা টার্গেট করে দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীকে। পিলখানায় হত্যা করা হলো ৫৭ সেনা অফিসার। এরপর ভারতীয় নির্দেশ বাস্তবায়ন করে শুদ্ধি অভিযানের নামে শেখ হাসিনা কয়েকশত অফিসারকে নানাভাবে বাড়ি পাঠায়। কারও ভাগ্যে জুটে জঙ্গি সংযোগ, কারো হাসিনুরের মত কারাগার! ফলাফল- বাংলাদেশ আজ অরক্ষিত।

বাংলাদেশ আর কতদিন সহ্য করবে? দেশের জনগন কি এভাবেই চুপ থাকবে? দেশপ্রেমিক মিলিটারী কি এই আগ্রাসন ঠেকাবে না? বদলা নিবে না? সময় বলে দেবে সব প্রশ্নের উত্তর।

লেখক:: কামরুল ইসলাম ভাই

আমেরিকা আর আমার বাংলাদেশ।

★লেখকঃতাওফিকুল ইসলাম পিয়াস
★বছর আড়াই তো হলোই আজানের ধ্বনি কানে আসে না!
ফজরে কেউ 'আসসালাতু খাইরুন মিনার নাও' বলে ঘুম ভাঙায় না। এদেশে আওয়াজেরও নির্দিষ্ট একটা মাত্রা রয়েছে- তার বেশী শব্দ করা যাবে না।
আর তাই তো মসজিদে মাইক ব্যবহার করে বা উচ্চস্বরে আজানও দেয়া যাবে না, যায় না।
এবং, একই সংগে গীর্জা বা মন্দির থেকেও কোন উচ্চ আওয়াজ বাইরে যেতে পারে না।
এটাই এদেশের আইন।
সকলের জন্যই সমান অধিকার।
খৃষ্টান দেশ; তো, তাতে কি? সবার জন্য সমান অধিকার।
কোন ধর্ম, বর্ণ, চেহারার সেপ- এতে কিছুই এসে যায় না এখানে। সাদা কালো চাইনিজ স্প্যানিশ এতে কি এসে যায়? আপনি হিন্দু না ইহুদী- এতে কিছুই যায় আসে না। আপনি নাস্তিক না আস্তিক- সেটা আপনার বিষয়।
এখানে সকলেই ভদ্র। কেউ কাউকে ঘাটায় না, বিরক্ত করে না। অসভ্যতা করে না।
এখানকার ছেলেরা ফ্যাল ফ্যাল করে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়েও থাকে না।
কে কি জামা পরেছে বা পরেনি, কে হিজাব মাথায় দিয়েছে বা বোরকা দিয়ে সর্বাংগ ঢেকে রেখেছে তাতে কারো কিছুই এসে যায় না; যেমন এসে যায় না কেউ অতি সংক্ষিপ্ত পোষাক পরলেও। কারণ কারো দিক তো তাকানোর ফুসরতই নেই অন্যের।
সকলেই কাজ নিয়ে ব্যস্ত।
এখানে শাহবাগ নেই।
এখানকার কেউ 'দেশপ্রেম' 'দেশপ্রেম' বলে চিৎকার করে না; কেউ দিবস কেন্দ্রিক দেশপ্রেমও ফলায় না!
এদের 'দেশপ্রেম দেখানোর ফালতু সময়' কোথায়?
এরা শুধু কাজ করে। আর কাজ করেই আজ এরা 'আমেরিকা'।
কাজই এখানে দেশপ্রেম। চাপাবাজিতে দেশপ্রেম যে হয় না- সেটা তারা আরও আড়াইশ বছর আগেই দেখিয়ে দিয়েছে।
এখানে শুধুই যোগ্যতার কদর।
আর সেই সংগে, এটাকে বলা হয় 'ল্যান্ড অব অপুরচনিটি'।
আপনার যোগ্যতা দিয়ে যা খুশী তাই করে নিন।
যোগ্যতা দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোন, বারাক ওবামা হোন, বিল গেটস হোন, মার্ক জাকারবার্গ হোন, সুন্দর পিচাই হোন!
কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় হতে পারবেন না, তারেক রহমান হতে পারবেন না এদেশে।
হতে পারবেন না শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া।
এদেশে মমতাজ হয়ে এমপি বা তারাণা হালিম হয়ে মন্ত্রীও হতে পারবেন না!
নারীর ক্ষমতায়ণের বিষাক্ত বুলি আওড়িয়ে 'হিলারী ক্লিনটন' হয়েও নির্বাচিত হওয়াও সম্ভব না।
শুধুই যোগ্যতার খেলা এখানে।
ডায়নামিক মানুষদের কদর এদেশে।
এখানে মানুষের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
তারপরও ৩২ কোটি মানুষ।
এখানে মশা নেই, কাক নেই, নেরী কুকুরও নেই। অবশ্য 'পেট এনিমেল' রয়েছে।
এদেশেও ভাস্কর্য আছে।
তবে, তাদের সুপ্রিম কোর্টে তারা ভাস্কর্য বসায়নি।
তারা তাদের সুপ্রিম কোর্টে বসিয়েছে একটা স্ট্যান্ড- যেটাতে সর্বকালের সেরা বিচারকের সম্মান দেয়া হয়েছে ইসলামের প্রোফেট মুহাম্মদ (সা) কে।
এদেশে ভাস্কর্য মানেই জর্জ ওয়াশিংটন না।
এদেশে ভাস্কর্য মানেই ল্যাংটা মেয়ে মানুষের মুর্তি না।
এদেশে ভাস্কর্য হয় ক্রিয়েটিভিটির।
মৃনাল হকের মতো কথিত ভাস্করদের কোন জায়গা এদেশে হয় না- সেই যোগ্যতা না থাকায় তারা ফিরে যায় নিজ দেশে।
তারপর আবারও শো করে তাদের 'সেই দেশপ্রেম'! শাহবাগ। দেশপ্রেমের শ্রাদ্ধ।
সব দেশপ্রেম খুঁজে পাওয়া যায় শুধুই বাংলাদেশে।
সব বুদ্ধিজীবিও খুঁজে পাওয়া যাবে ঐ বাংলাদেশেই!
যে দেশে ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা করেই দেশকে এগিয়ে নেয়া হবে হাজার বছর।
দেশ হয়ে যাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র।
সেই চর্চাকেন্দ্র থেকে ঝাকে ঝাকে পঙ্গপালের মতো করে বের হয়ে আসবে জাফর ইকবাল, আনোয়ার হোসেন, মুনতাসির মামুন, হাসানুল হক ইনু, মতিয়া চৌধুরী, ইমরান এইচ সরকার, মতিউর রহমান, আনিসুল হকরা। সংগে দু'চারটে মৃনাল হকরা জন্ম নিবে। বের হবে আসাদুজ্জাম নুর, তারাণা হালিমরা।
তারপর দেশ হয়ে যাবে 'সোনার বাংলা' যেই স্বপ্ন আবার আগেই দেখে রেখেছে শেখ মুজিবর রহমান।
একি এক অদ্ভুৎ ক্রীড়াক্ষেত্র!
গত প্রায় দশ বছর আমরা এসবই দেখে যাচ্ছি। শুনে যাচ্ছি।
স্ট্যান্ডার্ডহীন একাডেমিক সার্টিফিকেট দিয়ে দেশের ছেলে-মেয়েদের প্রতিবন্ধী করে ফেলা হচ্ছে!
এই প্রতিবন্ধী প্রজন্ম শেখ মুজিব ছাড়া আর কিছুই জানে না। শিখে না। বুঝে না।
এরা পরে থাকে দেশপ্রেম নিয়ে!
শত কোটি টাকা খরচ করে 'সোনার বাংলা গান' গেয়ে এরা দেশপ্রেম দেখায়। রেকর্ড করে দেশপ্রেমের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়ে বিসিএস দিয়ে অফিসার হয়ে শুরু করে 'হারাম আয়ের ঘুষের জীবন'। এদেশে একটা ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তা, ভবন তৈরীতে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ফেলা হয় মুহুর্তেই।
একটা সম্পূর্ণ ব্যাংক খেয়ে ফেলা হয় মুহুর্তেই।
যোগ্যতার কোন সম্মান নেই এদেশে।
যে এমপি আজ মারা যায় কাল তার স্ত্রী বা পুত্র-কন্যা পায় পরবর্তী এমপি হবার নমিনেশন। কি দারুণ যোগ্যতা!
প্রতি মুহুর্তে আমি স্তব্ধ হয়ে পরি- যখনই ভাবি বাংলাদেশকে নিয়ে।
এভাবেও একটা দেশ চলে?
এভাবেও একটা দেশ হয়?
আর এরকম দেশে যারা বসবাস করে তারাও মানুষ?
কিভাবে সম্ভব?
Taufiqul Islam Pius

আরব আবিশ্বাসীর বিশ্বাস।

আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি না! আমি কুরআন বিশ্বাস করি না। সেই সাথে আমি কেয়ামতকেও বিশ্বাস করি না।
.
কুরআন কল্পিত জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে, জীবনটাকে সংকীর্ণ করে ফেলাই কুরআনের কাজ! জীবন একটাই। জীবনকে উপভোগ করতে হবে। যদিও আমি জন্মসূত্রে মুসলিম। কিন্তু কোন কল্পিত জাহান্নামের ভয়ে জীবনকে জেলখানায় আবদ্ধ করতে চাই না। তাই আমি কুরআন পড়ি না এবং বিশ্বাসও করি না।
.
বাগদাদ ইউনিভার্সিটির আরবী বিষয়ক শিক্ষক তার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বললেন। তখন ক্লাসে উপস্থিত এক ছাত্র বললেন, স্যার! আপনি কুরআনের ভুল এবং অসংগতি গুলো নিয়ে একটি বই লিখুন! আপনার লেখা বইটি হবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় এবং মূল্যবান বই। কারণ, এই প্রথম কোন আরবীয় মুসলিম কুরআনের বিরুদ্ধে কলম ধরতে যাচ্ছে। সেই স্যার ভাবলেন তাই তো! তিনি বই লেখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।
.
এর আগে তিনি আরব ঐতিহ্যের উপর ব্যাপক গবেষণা চালান। সেই গবেষণার কারণে তাকে প্রাচীন আরবের বহু বই পড়তে হয়েছে! কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তিনি ভুল করেও কুরআন পড়ার চেষ্টা করেন নি। তিনি The prophethood of Muhammad (saws): my journey from doubt to conviction ( মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নবুয়ত: সন্দেহ থেকে দৃঢ় বিশ্বাসের পথে যাত্রা) এই শিরোনামে বই লিখতে শুরু করেন)।
.
বইটি লেখার জন্য তাকে এই প্রথম কুরআন হাতে তুলে নিতে হল! ৩০ পারা কুরআন পড়ার পর তিনি ঘোষনা দিলেন, এটি মানুষের লেখা কোন কিতাব হতে পারে না!
 এরপর তিনি কুরআনের সৌন্দর্য এবং মহত্ব নিয়ে একাধারে ১৮ টি বই লিখেন!
এক সময়ে প্রচন্ড ইসলাম বিরোধী সেই ব্যক্তি এখন আরবের জনপ্রিয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং টিভি আলোচক। সেই আলোচিত ব্যক্তিটির নাম  Dr.Fadel Saleh Sameree ।
.
আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।  কুরআন পড়তে গিয়ে বার বার অবাক হয়ে যাই। মনে হয়ে, এই কিতাব যেন আমার মনের বিক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার জন্যই লেখা হয়েছে। মনের হতাশা দূর করার জন্য আমরা কত জায়গায় না দৌড়াই! কখনো ডাক্তারের শরণাপন্ন  হই। কিন্তু সমাধান আমার আপনার ঘরেই আছে তা খুলে দেখুন।
শতাব্দীর অগ্রদূত সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী বলেন"এটা নফসের দাস ও দুনিয়ার গোলামদের জন্য নাযিল হয়নি।
বাতাসের বেগে উড়ে খড়কুটো,পানির স্রোতে ভেসে চলা কীট-পতঙ্গ এবং প্রতি রংঙে রঙ্গিন হওয়া রংহীনদের জন্য অবতীর্ণ হয়নি।
এমন এক দুঃসাহসী নরশার্দুলদের জন্য নাযিল হয়েছে;
যারা বাতাসের গতিকে বদলে দেবার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে।যারা নদীর তরঙ্গের সাথে লড়তে এবং তার স্রোতধারা ঘুরিয়ে দেবার মত সৎসাহস  রাখে।

অন্যের সুখেই নিজের সুখ পাবেন।

এক সেমিনারে ৫০ জনের একটা গ্রুপ উপস্থিত ছিল হঠাৎ বক্তা তার বক্তৃতা থামিয়ে সবাইকে একটা করে বেলুন দিলেন।সকলকে মার্কার দিয়ে নিজ নিজ বেলুনের উপর নাম লেখতে বললেন। তারপর সবাইকে বললেন বেলুন গুলো ষ্টেজের সামনের মেঝেতে এনে রাখতে।
৫০টা বেলুন একসাথে রাখলো এখন বক্তা সবাইকে বললেন,৩ মিনিট সময় দিলাম।আপনি আপনার নিজের বেলুনটা খুঁজে বের করুণ।
হুড়াহুড়ি লেগে গেলো,সাথে সাথে ৩ মিনিটে কেউই এই হুড়োহুড়ি ধাক্কাধাক্কির মধ্যে নিজের বেলুনটা খুঁজে পেলো না।
এবার তিনি সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,“এবার আপনারা ইচ্ছে মতো বেলুন হাতে নেন।সেখানে যার নাম লেখা থাকবে তার নাম ডেকে, তাকে দিয়ে দেন”কয়েক মিনিটের মধ্যে যার যার বেলুন সে সে পেয়ে গেলো।
বক্তা এবার বলা শুরু করলেন,“ঠিক এই ব্যাপারটিই আমাদের জীবনে ঘটে যাচ্ছে।আমরা প্রত্যেকেই চারপাশে নিজের সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু ঠিক কোথায় সুখ,তা কেউই জানি না আমাদের সুখ আসলে নিহীত আছে অন্যের সুখের মধ্যে অন্যদেরকে তাদের সুখ দিয়ে দিন।আপনি আপনার নিজের সুখটি পেয়ে যাবেন।

ইতিহাস

কনস্টান্টিনোপল বিজয়

"কনস্টান্টিনোপল বিজয়" আজ ২৯ শে মে। ১৪৫৩ সালের এই দিনে ইস্তাম্বুল বিজয়ের দ্বারা রাসুলাল্লাহ (সা) এর ভবিষ্যৎবাণী সত্য প্রমাণ করেন...

জনপ্রিয় পোস্ট