Translate

Sunday, June 4, 2017

লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক।

লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ম বিএমএ লং কোর্সের অফিসার। লে: কর্নেল হাসিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৮ বছর অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে কাজ করার পরে ২০১০ সালে ৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার সময় ময়মনসিংহ সেনানিবাসের ARDOC অফিসের সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে অপহৃত হন। আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের অধিনায়ক লে.কর্নেল হামিদ এবং র‌্যাব কর্মকর্তারা হাসিনকে জোর করে গাড়ীতে তুলে নেয়। এরপরে রাজেন্দ্রপুরে গহীন অরণ্যের মধ্যে অন্ধকার ছোট এক রুমে দীর্ঘ ৪৩ দিন চোখ বাঁধা, হ্যান্ডকাফ লাগানো, বিভিন্ন বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ, রাতভর অমানুষিক নির্যাতন, এমনকি ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জেরা। ফ্লোরে শুয়ে মৃত্যুর জন্য প্রতীক্ষা করতে বলা হতো। যেকোনো দিন ক্রসফায়ারের ভয় দেয়া হতো, এমনকি বলা হতো শেষ দোয়া করে নাও। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মোবাইল ফোন করে বোনদের এবং পরিবারের সদস্যদের বলতে বাধ্য করা হতো, যাতে ওরা উচ্চ বাচ্য না করে।

এরপরে কোর্টমাশাল করে সাজানো বিচারে ৪ বছর ৩ মাস কারাদন্ড দিয়ে লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুরকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। সাথে চাকরি থেকে ডিসমিসাল। অপরাধ হিসাবে মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়, হরকাতুল জিহাদ এবং হিজবুত তাহরিরের সঙ্গে যোগাযোগের বানোয়াট অভিযোগ। হাসিনের পরিবার এবং তার কোর্সেমেটরা বলেন, জঙ্গি যোগাযোগের এই অভিযোগ মিথ্যা। তাহলে কি ছিল তার অপরাধ? জানা যায়, হাসিনুর ছিলেন প্রচন্ডভাবে ভারত বিরোধী।

সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বিরল সাহসী অফিসারদের একজন ছিলেন লেফটেনেন্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান ডিউক, যিনি তিন তিন বার ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেছেন। তিনি ছিলেন পাহাড়ে শান্তিবাহিনীর যম। তৎকালীন এই ‘কালা ক্যাপ্টেন’ খ্যাত হাসিনের ভয়ে শান্তিবাহিনী দৌড়ে ভারতে পালাতো। হাসিনের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ভারতীয় মদদপুষ্ট ২৬০০ সন্ত্রাসীদের তালিকা ছিল। বাংলাদেশের পাবর্ত্য অঞ্চলে ভারত কতৃক শান্তিবাহিনী সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসীদের অস্ত্র দেয়া সহ পাহাড় অশান্ত করার ভারতের তাবৎ তৎপরতাকে কঠিন করে দিয়েছিলেন হাসিনুর। ফলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের রোষানলে পড়েন হাসিনুর। তাদের চাহিদা মোতাবেক শেখ হাসিনার সরকার লে.কর্নেল হাসিনকে অপহরন করে গোপন স্থানে আটকে রাখে দীর্ঘদিন, পরিবার পরিজনকে কিছুই জানতে দেয়া হয়নি। ভারতীয় গোয়েন্দারা জেরা করে দোভাষীর সাহায্যে। অবশেষে জঙ্গিদের সাথে যোগসাজসের মিথ্যা অভিযোগে (ভারতীয়) হাসিনার সরকারের দয়ায় চাকুরিচ্যুত হয়ে ৫১ মাস কারবাস। হাসিনুরের কোর্সমেটরা যখন সিনিয়র জেনারেল, তখন বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ এক কমান্ডো হাসিনুর জীবন বাঁচানোর কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত। কেবল দেশপ্রেমের অপরাধে একজন সার্ভিং লেফটেনেন্ট কর্নেলকে গুম হতে হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টের অফিস থেকে- কল্পনা করা যায়!!!

বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানাতে গিয়ে প্রথমেই তারা টার্গেট করে দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীকে। পিলখানায় হত্যা করা হলো ৫৭ সেনা অফিসার। এরপর ভারতীয় নির্দেশ বাস্তবায়ন করে শুদ্ধি অভিযানের নামে শেখ হাসিনা কয়েকশত অফিসারকে নানাভাবে বাড়ি পাঠায়। কারও ভাগ্যে জুটে জঙ্গি সংযোগ, কারো হাসিনুরের মত কারাগার! ফলাফল- বাংলাদেশ আজ অরক্ষিত।

বাংলাদেশ আর কতদিন সহ্য করবে? দেশের জনগন কি এভাবেই চুপ থাকবে? দেশপ্রেমিক মিলিটারী কি এই আগ্রাসন ঠেকাবে না? বদলা নিবে না? সময় বলে দেবে সব প্রশ্নের উত্তর।

লেখক:: কামরুল ইসলাম ভাই

No comments:

Post a Comment

ইতিহাস

কনস্টান্টিনোপল বিজয়

"কনস্টান্টিনোপল বিজয়" আজ ২৯ শে মে। ১৪৫৩ সালের এই দিনে ইস্তাম্বুল বিজয়ের দ্বারা রাসুলাল্লাহ (সা) এর ভবিষ্যৎবাণী সত্য প্রমাণ করেন...

জনপ্রিয় পোস্ট